rh.Md. Rifat HoshenStudent · a continuing journey
A page from my notebook / Discussion

আমার চোখে কোটা আন্দলন !!! ২০২৪ এর জুলাই মাস

Reading title taken from the opening line. The complete original post is below.

Make yourself comfortable

আমার চোখে কোটা আন্দলন !!! ২০২৪ এর জুলাই মাস।

.

.

.

ভার্সিটি জীবন শুর হইসে এই কোটা আন্দলন দিয়ে, আর কিছুদিন পর হয়তো শেষ ও হবে কোটা আন্দলন দিয়ে।

শিক্ষকরা যখন আন্দলন করা শুরু করল, তখনই ভয় পাইছিলাম, ভার্সিটি শেষ করতে আর যে কতোদিন লাগে। তার পর হুট করে শুনি কোটা আন্দলন। আরো অনিশ্চয়তায় ডুবে গেলাম।

যেহেতু মোটামুটি মাইন্ডসেট যে সরকারী চাকরী করবো না, তাই সরকারী চাকরীর কোটা থাকতেছে কি থাকতেছেনা সেটা নিয়ে মাথাব্যথা কম ছিল। তবে, আড্ডায় সবসময় সরকারী চাকরির প্রস্তুতি আর পরে কোটা আন্দলন নিয়ে সরকারের সমালোচনা থাকতোই। সুমন, সিফাত ভাই, মাসুম ভাই, রবিন ভাই সহো প্রতি দিনই চাকরির প্রস্তুতির বিষয়গুলাতে চায়ের আড্ডা চলতো। তারপর, চাকরী প্রস্তুতি থেকে মুভ করলো আন্দলনের খবর, রাজনৈতিক আলোচনা।

ততোদিনে ঢাবি, রাবি, জাবি এগুলাতে আন্দলন পুরোদমে মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে।

আমার ক্যম্পাসে অল্প সময়ের জন্য পোলাপাইন মানব বন্ধন করতে শুরু করল। আমার যেহেতু ইনসোমনিয়ার সমস্যা আছে, দিনের প্রথম অর্ধেক সময়টা আমার ঘুমেই কাটে। আন্দলনে তেমন যোগ দেই নি। আলোচনা, সমালচনাতেই সিমাবদ্ধ ছিলাম।

তবে, আড্ডার সবাই যেহেতু আন্দলনে যাচ্ছিল, নিজের প্রতি কিছুটা হলেও অপরাধবোধ জাগা শুরু করছিল।

তার উপর ক্যম্পাসে কিছৃ ছাত্রলীগ নেতার কর্মকান্ড সহ্য করতে পারতাম না শুরু থেকেই। আমি হলেও উঠিনি, এই পলিটিক্স এভয়েড করার জন্য, পরে প্রসাশনিক ব্লোকে উঠার চেষ্টা করছিলাম। পরে আর সুযোগ পাই নি।

আবার জুন ক্লোজিং হয়ে গেছিল, প্রজেক্টের কনক্লুশন টানে সেগুলার কাজে আমি আর আমার জুনিয়র প্রায় দিনই ক্যম্পাসের বাইরে থাকতাম দিনের সময়টাতে।

ধীরে ধীরে আন্দলন যখন সারা দেশে ছড়ায় পড়লো, অবপরাধবোধ টা আরো বেশী হয়ে গেল।

তার উপর প্রতিবেশী বেরোবিতে ভয়ানক পরিস্থিতির ক্ষোভ।

১৬, জুলাই তারিখে খুবই অল্প সময় ছিলাম, তারপর ১৭ তারিখের আন্দলন টা ছিল দুপুরের পরে৷ সুপারভাইজরের সঙ্গে মিটিং টা লাঞ্চ আওয়ারে শেষ করে, আমরা ক্যম্পাসেই ঘোরাঘুরি করতে থাকলাম, তারপর আন্দলন শুরু হলো।

শুনি, আন্দলনের জন্য ভাড়া করে আনা মাইক টা, ছাত্রলীগ কাড়ে নিছে। তখন মেইনগেট থেকে সরে সাধারন ছাত্ররা এক্টু পেছনে অবস্থান নিয়ে তাদের স্লোগান দিচ্ছিল। অন্য দিকে ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা মেইন গেটে অবস্থান নিচ্ছিল আর উষ্কানিমূলক স্লোগান দিচ্ছিল। আর আন্দলনে প্রসাশনিক টিচার রা মাঝে দাড়ায় সবকিছু দেখতেছিল। একবার ছাত্রলীগের সাথে কথা বলে, অন্যবার সাধারন ছাত্রছাত্রীদের।

আমি একবার সামনের দিকে যাই, একবার পেছনে আসি। পেছনে দেখি সিফাত ভাইরা সবদিকে কড়া নজর রাখতেছে, স্লোগানে উষ্কানি যেনো না দেওয়া হয়, বহিরাগত কেউ সুযোগ নিচ্ছে কিনা এগুলা।

একটা আশা ছিল, যতক্ষন শিক্ষকরা মাঝে থাকবে, ততোক্ষন কোন ঝামেলা হবে না।

তার মাঝে কিছু খবর কানে আসে, হল থেকে ছেলেপেলেরা অস্ত্র আর লাঠি নিয়ে বের হচ্ছে। নেতার আদেশ।

তার কিছুক্ষনের মধ্যে পুলিশ সামনে চলে আসে, এম্নিতেই তারা আগাম অবস্থান নিয়ে রাখছিল।

পুলিশ ছাত্রলিগের সাইডে যাবার পর, কিছু নেতা - পাতি নেতা সাধারন শিক্ষার্থীদের শান্ত করার নাটক করে (নাটক বল্লাম, কারন পরে শুনছিলাম ওরা মারার টার্গেট নিয়েই আসছিল)।

ততোক্ষনে আমি পেছনের দিকে চলে আসছিলাম। হুট করে দেখি টিচার রা সাইডে চলে গেছে, তার একমিনিটের মধ্যে হুট করে চিল্লা-চিল্লি আর দৌড় দেখে থতমত খায়ে যাই। আমি পার্সোনালি লাঠি ভাঙার জন্য গেছিলাম। তার আগেই এতো ভিড়ে, স্রোতের বিপরিতে গিয়ে মাঝামাঝি দাড়াই।

একটা ঘোরে ছিলাম মনে হয়, ঘোর কাটতেই দেখি আমার আশেপাশে রাস্তায় শুধু পায়ের জুতা পড়ে আছে, আর চারদিকে ছাত্রলীগের ছেলেরা লাঠি নিয়ে দাবাড় দিচ্ছে ছাত্রদের। একজন আমাকে মারতে আসছিল, জানিনা আমি শুধু চোখের দিকে তাকায় ছিলাম (জুনিয়র ছেলেটা মারতে আসতেছে), ভাগ্য ক্রমে ছেলেটার হাতের লাঠি ফসকে দূরে গিয়ে পড়ে। তারপর দেখি জুনিয়র ইকবাল মাটিতে পড়ে আছে, ওরে উঠায় নিয়ে ম্যাসের দিকে আসতে শুরু করলাম।

রাস্তার মোড়ে ছাত্রলীগের পোলাপাইন আটকায় জিগায়, আমি কোন হলে থাকি। সোজা বলছিলাম ম্যসে থাকি, আর ইকবালকে ওখানেই নিয়ে যাচ্ছি। আর আমাকে যাইতে দে।

নিজেরই ইমিডিয়েট জুনিয়র ব্যাচের এক ছেলে বলতেছিল, " "বেশী কথা বল্লে এখানেই মারে ফাটায় দিবো"। সময় মতো রুপো, মেহেদী, অনুপম সহো কিছু লোকজন আসে ওখান থেকে ছাড়ায় নিয়ে যায় আমাদের। দুই কদম হাটতেই আবার চামচাগুলা ধরে। সেখানে রাকিব আসে মুরগীর ফার্মটা পার করে দেয়।

রাস্তায় শুধু জুতা গুলো ছড়ায়ে ছিটায় পড়ে ছিল। ম্যাসের সামনে গিয়ে দেখি আরো অনেকজন আহত হইছে, সবাইকে বরফ ম্যানেজ করে দেওয়া হচ্ছে।

ইকবালকে রুমে রাখে আবার গেলাম ক্যম্পাস। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলতেছিল ছাত্রলীগ আর আসাদের মাঝে। মাঝে পুলিশ চুপচাপ দেখতেছিল সেদিন। পরে শুনি সেদিন আমাদের মাঝে ছাত্রদল ঢুকে পড়ছিল, আর ওরা আমাদের ব্যবহার করে ওদের নাম দিয়ে চালানোর চেষ্টা করতেছিল।

সেদিন রাত্রে আমরা ভয়ে ছিলাম, সারা দেশের মতো ছাত্রলীগ ম্যাসে হামলা করবে নাকি। ছাদে ইট, পাথর জমা করে রাখে সবাই। আসলেই যেনো প্রস্তুত থাকতে পারি।

তার মাঝে অনুপমের(১৮) সুইসাইডের খবর, নিতে পারতেছিলাম না বিষয়টা। ছেলেটা সুইসাইড নোটেও আন্দলনের সমর্থন রাখে গেছিল।

তারপর হল বন্ধ হইল। সবাই বাড়ি যাচ্ছিল। আমি ছিলাম তার পরের দিন।

বৃহস্পতিবার রাত্রে ইন্টারনেট চলে গেছে, ভয়ে ছিলাম এই ব্লাকআউটে সরকার কি যে তান্ডব চালাবে, এশার নামাজের আগে স্যার ফোন দিয়ে বল্ল বাসায় যাইতে, পুলিশ আসতে পারে। এক পুলিশ বন্ধুর থেকেও শুনলাম। সব মিলায় রাত্রেই রওনা দিলাম।

তারপর বাড়িতে ইন্টারনেট বিনা ছিলাম। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন প্রায়। খবর দেখার জন্য আকাশের বাড়িতে দুপুর বেলা করে যাইতাম।

দেশের পরিস্থিতি দেখে, মনে মনে আর আড্ডায়, বাসায় সরকার কে গালি দেওয়া ছাড়া কিছু আসতো না।

তার পর, মঙ্গল বারে আবার চলে আসি ক্যম্পাসে। প্রাইভেট ভার্সিটির ঘটনার পর ভয়েই ছিলাম। কখন কি হয়, দিনাজপুরে শহরে আন্দলন। তার পরের দিন রাত্রে আবার স্যার কল দিয়ে বলে, ম্যাসের এদিকে পুলিশ আসতেছে। সোজা ছাদে চলে যাই, সেখানে অনেকক্ষন থাকার পর রুমে চলে আসি।

ইন্টারনেট আসল, তারপর সারাদেশের অবস্থা দেখে মানসিক অবস্থা ঠিক ছিল না। প্রত্যেকটা রাত জাগেই ছিলাম৷ সকাল বেলা ঘুমাইতাম।

সারাদেশ যখন রণক্ষেত্র, তখন আমার ক্যম্পাসে পিন পতন নিরবতা চলতেছিল৷ সেদিনের পর ক্যম্পাসে কোন আন্দলনও হয়নি আর। যা হইছে সব শহরে হইছে। লজ্জায় পড়তাম এই নীরবতা দেখে, সারা দেশে কতো প্রতিবাদি কন্ঠস্বর আর আমার গলা চুপ। বাসায় বার বার করে বলছিলাম, আমি বাংলাদেশের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে আছি। বাসা- আত্নীয় সব জায়গা থেকে আন্দলনে না যাওয়ার আদেশ প্রায় প্রতিদিনই৷ তখন আমি বুঝছিলাম, নানু কেনো যুদ্ধ করেনি। আমি প্রায়ই আপসোস করে বলতাম, যুদ্ধটা করলে আজ আমি কোটার সুবিধা ভোগ করতে পারতাম।

সারা আন্দলনে অর্পিয়া আপুর পোষ্টগুলা দেখতাম আর আপসোস করতাম, আমি কেনো পোষ্ট দিতে পারতেছিনা। কেনো এতো ভয় পাচ্ছি।

ভয়ের কারন তেমন কিছু না, পুলিশ আসে ডাইরেক্ট থ্রেট দিয়ে গেছে, কিছু হলেই ধরে নিয়ে যাবে। আর ছাত্রলীগের চামচা কিছু ইনফর্মার ছিল, সবার উপরেই নজর রাখে ইনফর্মেশন লিক করতো। আর স্ক্রিনশর্ট স্কোয়ার্ড সবসময় রেডি থাকতো৷

ফুলবাড়ি থেকে সবাই খোজ নিচ্ছিল, ফুলবাড়িতে আন্দলন শুরু করবে। একটা গ্রুপে এড হই৷ টেকনিক্যাল কিছু দিক, কিছু সতর্কতা নিয়ে কথা বলছি। তারপর, খোজ নিয়ে দেখলাম, ছাত্রলদের পাতি-নেতারাই চালাচ্ছিল গ্রুপ টা, আর সবাই কে সাইলেন্টলি ব্যবহার করতে চাচ্ছিল। পরে আমি কথা বলা বন্ধ করে দেই। দূরে থাকে, ফুলবাড়ির জুনিয়রদের উপদেশ দিছি আন্দলনের জন্য। আবার সতর্কও করছি, কারন আমার কাছে কিছু কিছু খবর আসতো।

সরকার এক্টু করে নরম হচ্ছিল, তব ভুল সময়ে। আমার শুধু মনে হচ্ছিল এই সরকার ১৫ বছর থাকার পরেও এতো বোকা কিভাবে হয়! নাকি আন্দলনটাকে জনগনের সামনে রাখে, ভেতরে ভেতরে আরো বড়ো কিছু প্লান এক্সিকিউট করেতছে নাকি ! জাস্ট, বিশ্বাস হচ্ছিল না, হাসিনা কিভাব এতো বোকামি করতে পারে?

তারপর তো ৯ দফা থেকে এক দফা। প্রথমে সরকারের নাটকিয় শোকের আয়োজনে কালো প্রফাইল পিকচারের পরিবর্তে জনতার লাল প্রোফাইল পিকচার, তারপর তো একদফার প্রফাইল পিকচার।

বাসায় থাকলে হয়তো ফোসবুকে সরব থাকতাম, কিন্তু ছিলাম আওয়ামী প্রশাসনের নাকের ডগায়।

মাঝে হুট করে ক্যম্পাসে গ্রাফিতি করা হয়, কিন্তু প্রসাশন আনসারদের দিয়ে সেটাও মুছে দেয়। তার পরের দিনই বড়োভাইরা দিনের আলোতে প্রকাশ্যে গ্রাফিতি আবার করে। বাপ্পি আর আমার প্লান ছিল ক্যম্পাসের দেওয়ালে গ্রাফিতি করবো। (অনেক আগে থেকেই) স্প্রে ছিলই বাপ্পির। সেগুলা নিয়ে বের হয়ে গেছিলাম। গ্রাফিতি করার মতো দক্ষতা ছিল না আমার, সেজন্য মাথায় যা আসছে কিছু দেওয়ালে লেখে দিয়ে আসছি।

শহরের ছেলেমেয়েরা লিডিং পজিশনে কাউকে খুজতেছিল, ক্যম্পাস থেকে বোধয় তেমন কাউকে পায়নি তাদের ডিরেকশন দেওয়ার। অনেকেই অবশ্য ক্যম্পাসের পরিচয় গোপন করে, সাধারন ছাত্রের ভিড়ে পেছন থেকে ডিরেকশন দিচ্ছিল, সাথে ছিল। কিন্তু সমন্বয়কদের(হাবিপ্রবি) কারো কথা শুনিনি আমি

এর পরপরেই তো লং মার্চের ডাক, স্বভাবতই আমি ভীতু প্রকৃতির। যাবার সাহস হয়নি।

ভোরের আলো ফোটার সাথে মনে মনে বল়ছিলাম, আজ এসপারওসপার কিছু একটা হবে। মনে ভয় দিয়েই ছিল দুপুর পর্যন্ত। তারপর তো খবর আসল, হাসিনা পালায় গেছে। ইন্টারনেট আবার চালু হইসে। সব মিলায় একটা খুশির খবর আন্দাজ করতেছিলাম।

আজ আনন্দ মিছিল করতে গেছিলাম ক্যম্পাসে। আনন্দটা ছিল ম্যাস থেকে ক্যম্পাসে যায়ে ১০-১৫ মিনিট। তার পর আরেক আন্দলন ক্যম্পাস বাচাও আন্দলন। ক্যম্পাসের দুদিক থেকে দলে দলে বিএনপির লোকজন বের হয়ে ক্যম্পাসে তান্ডব চালাইতে চাচ্ছিল। আমরা সাধারন ছাত্ররা আটকায়ে রাখছিলাম, কিন্তু মন টা ভাঙ্গে গেল যখন কিছু শিক্ষকরুপি মানুষ তাদের সুযোগ দিয়ে ক্যম্পাসে ঢুকাইলো৷

আহা!

তারা ফসল কাটে ঘরে উঠাবে।

তারপর বাকিটা সময় এক জঘন্ন সময় কাটল। কিভাবে কিভাবে যেনো ক্যম্পাসটা ছাত্রদলের দখলে চলে গেল। হবেইনা কেনো, আমাদের থেকে ১০-১৫ গুণ লোকজন ঢুকে গেছে। সেটা অবাক করা বিষয় না, বিষয় হলো আমাদের শিক্ষকরাই তাদের প্রশয় দিয়ে ভেতরে নিমন্ত্রন দিছে।

শেষ সংবাদ মতে, সেনাবাহিনি কিছুটা শান্ত করছে ক্যম্পাস।

হ্যা, আমি তেমন এক্টিভিটি দেখাইনি আন্দলনে, কিন্তু সমান ভয়েই রাতগুলা পার করছি।

আজ, রাজনীতি দেখলাম। কিভাবে এক কৃষকের থেকে তার চাষ করা ফসল ভোগ করা যায়।

তার উপর দেশে ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ, শুনে সব আনন্দ নষ্ট হয়ে গেছে আমার।

৬ তারিখে সুমন বল্ল, শিবিরেরা নাকি এক ভাইকে ছাত্রলীগ সন্দেহে বাজে ভাবে মারছে। ক্যম্পাসের হাসপাতালে ভর্তি।

ক্যম্পাসে গেলাম, কিছুক্ষণপর সমন্বয়কেরা বিজয় মিছিল করতেছিল। তখনো কিছু বুঝিনি। পরে ওদের সঙ্গে ক্যম্পাসের ভাইরা মিটিং এ যাবার জন্য বল্ল।

ওখানে গিয়ে কেমনযেনো মনে হচ্ছিল, একে তো আন্দলনে তেমন অবদান রাখিনি। তার উপর সমন্বয়কদের সাথে বসছি।

সব কথা শোনার পর তো নিজেকে রোহিঙ্গা মনে হচ্ছিল, যারা নিজেদের সমন্বয়ক বলতেছিল, তারা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। তাদের অনেককেই ফেসবুকে, রাস্তায় আন্দলনে দেখছি। তাদের কথা শুনছি। কিন্তু তারা বোধয় ভয় পাচ্ছিল আমরা তাদের ক্রেডিট কাড়ে নিতে চাই। বিষয়গুলা ওরোকমই। আমরা সাধারন ছাত্ররা ছিলাম, সাথে সরকার পতনের আগে ছাত্রলীগ থেকে বের হয়ে আসা কিছু বড়োভাই। তারপর চলেই আসলাম ক্যম্পাস থেকে ম্যাসে। এখন তো বড়ো বিপদ কাটে গেছে৷ তাই আমি না থাকলেও চলবে।

সেদিন থেকেই "কে হবে সমন্বয়ক" এই মর্মে কামড়া-কামড়ির সার্কাস৷ শুধুই কাদা ছোড়া-ছুড়ি।

ডিপার্টমেন্ট থেকে ছাত্রলীগের নেতা, পাতি-নেতাদের বয়কটের ডাক আসতেছিল। আমার দেখায় রাকিবের হাতে সেদিন লাঠিও ছিল না, মাথায় হেলমেটো ছিল না, আর অন-স্পটে কাউকে মারতেও দেখিনি আমি। সেজন্য জুনিয়রদের বলছিলাম, ওর নাম টা বয়কটের লিষ্ট থেকে বাদ দেওয়ার জন্য। কারন ডিপার্টমেন্টের জন্য রাকিব যা করছে তার তুলনা খুব কমজনই হবে। জুনিয়র রা শুনেনি। গুনেইনি।

সব মিলায়, আমার দৌড় থাকতো ম্যাস থেকে ক্যম্পাস আর ক্লাসের পরে সোজা ম্যাসে। নিজের খুবই ছোট নেটওয়ার্ক নিয়ে, নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতাম। আবার সেখানেই। মাঝে থেকে কয়েকটা সপ্তাহ শুধু ব্রেক গেছে দেশের স্বার্থে।

আমি লজ্জিত, আমি নন্দলালের মতো আচরন করছি। আনাদলনে অনেক কিছু করার উপায় ছিল।

শেষে আমি বাংলাদেশী।

About this archived page

From my Facebook writing archive. Individual post link not included.

Original wording, spelling and line breaks retained. Categories and reader notes are editorial additions, outside the original text.

Source date and reading title

Source date: Aug 10, 2024. The displayed date is normalised for readability; no posting time is inferred.

Reading title taken from the opening line. The complete original post is below.

From the archive