A page from my notebook / Poem
ঋণ জমায় ঋণী হয়েই দিন কাটে যায়
Reading title taken from the opening line. The complete original post is below.
Make yourself comfortable
ঋণ জমায় ঋণী হয়েই দিন কাটে যায়,
হিসেবের পাতায় ক্রমশ বেড়ে ওঠে টাকার বোঝা।
অর্ধায়ুর প্রান্তে এসে, কবে পাব মুক্তি এই ঋণের বন্ধনে?
সবার দেওয়া বিষ জমিয়ে রাখি অগাধ,
অমৃতের আলিতে পরিণত করে ছড়িয়ে দিই শূন্যতায়।
মুমুর্ষ-আশায় যেন সকল দুঃখ ম্লান ছায়ায় হারিয়ে যায়।
.
বারবার হারিয়ে যাই নিজেকে, মেঘলা বাতাসের স্রোতে ভেসে; ম্লান চেতনায় ফিরি তবুও ঝড়ে তেজস্বী স্রোতে।
ভয়ে নিজেকে লুকিয়ে রাখি, পথে পরিধান করি বর্ণিল মুখোশ।
.
শপথ করি প্রতিদিন একটুখানি ঋণ মিটাবো,
তবুও হারাই পথ অনন্তের চক্করে;
মনে হয়, এই পথের নেই কোনো শেষ।
দিনশেষে বাকিদারীর বোঝা গায়ে পড়ে,
ঋণের পাহাড়ের ছায়ায় বিলীন হয়ে যায়
সব ইচ্ছা ও উচ্চাকাঙ্খা।
.
কারো কাছে ঋণ নেবার কথা ছিল,
আমি জানাইনি;
হয়তো ঋণখেলাপীর কথা লুকিয়ে রাখা শ্রেয়।
ঋণখেলাপীর দোষে মাতৃভূমি কখনো ক্ষমা করে না।
যদি কেউ থাকত,
সে হয়তো কিস্তির হাত থেকে আমার মতোই লুকাত;
কিন্তু আজ সে মহাজনের আশ্রয়ে শান্ত নিশ্বাস ফেলে।
হয়তো সব আল্পনাই কল্পনা, মহা মায়া।
মেরুদণ্ড আর সোজা থাকে না, কুঁচকে যাই পথে;
সাথে বহন করি ভারী ভারী নিঃশ্বাস।
একটুখানি ঋণও বইতে পারি না,
আরেকজনের বোঝাও কেমনে চাপি!
রক্তে ফেনে ওঠে মহাজনের তেজ—
সামান্যটুকু তৃষ্ণা মেটাবে না তার।
এত টাকা তো আমার সাধ্যের বাইরে,
সাহস জোগাতে পারবো না।
মহাজনের ভয় তো সেই কবে থেকে, আজও কাটেনি।
.
অর্ধায়ু শেষ, প্রশ্ন রয়ে যায়— কবে শোধ দেব,
কবে ছাড় পাব?
.
কষ্টিপাথরে গহনাটি খুঁজতে গিয়েছিলাম,
আর এখন গহনাটাই ছড়িয়ে গেছে গুঁড়ো হয়ে;
এসিডে পুড়ে গেছে আঙুলের
চামড়া, হাড় বেরিয়ে এসেছে সামনে।
সেগুলোকেই পারদে মিশিয়ে পারদ উড়িয়ে
বানিয়ে দিবো যত্ন করে সব সৌন্দর্য এক করে,
তারপর সাজিয়ে বসব, লুকিয়ে দেখবো।
দেখবো সৌভাগ্যবান সে দেখতে কেমন যে গহনাটা পাবে।